স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত একটি কুরআন শিক্ষা কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াতের অন্তত পাঁচ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আয়োজকেরা। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিএনপি
মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ভৌমিকপাড়া জামে মসজিদে ‘সহীহ কুরআন শিক্ষা প্রোগ্রাম’-এর আয়োজন করে সোনারগাঁ উপজেলা উত্তর জামায়াত।
আয়োজকদের দাবি, মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লিদের অনুমতি নিয়েই ধর্মীয় এ শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
জানা গেছে, কুরআন শিক্ষার ক্লাস চলাকালে স্থানীয় বিএনপির নামধারী ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী মসজিদে প্রবেশ করে অংশগ্রহণকারীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মনির হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, আমরা একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও অরাজনৈতিক শিক্ষামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছিলাম। হঠাৎ করে কিছু ব্যক্তি মসজিদে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী জামায়াত কর্মী সোহেল জানান, হামলার সময় তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।
অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি কর্মী নাছির মোল্লা ও বিএনপি নেতা এসহাকের নেতৃত্বে শামীম মোল্লা ওরফে ‘ইয়াবা শামীম’, মোজাম্মেল মোল্লা, শফিকুল মোল্লা ও রাকিবসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসহাক বলেন, মসজিদে অনুমতি ছাড়া দলীয় কর্মসূচি করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আমি সেখানে যাই। এ সময় কথা-কাটাকাটি হয়েছে, তবে হামলা বা মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন