SS TV live
SS News
wb_sunny

Breaking News

সোনারগাঁয়ে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার,পরিবারের দাবি হত্যা

 


নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: 

সোনারগাঁওয়ে তৃষা (২১) নামে এক গৃহবধুকে নির্যাতন পরবর্তী শ্বাসরোধে হত্যার পর তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিহতের স্বামী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। রবিবার (৩১ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ভাদুড়িকান্দা গ্রামে আরজু মিয়ার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। 


নিহত তৃষার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, তৃষার বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তিনি তার নানার বাড়ি সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের ৫ নংওয়ার্ডের কদমতলী প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন মৃত আবুল কাসেমের বাড়িতে তার নানির সাথে থাকতেন। তার বাবার নাম মৃত নুরুল ইসলাম।


নানার বাড়িতে বসবাসের সুবাদে স্থানীয় ভাদুড়িকান্দা গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে সোহাগের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৫ বছর আগে উভয় পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তৃষা ও সোহাগ বিয়ে করে নেয়। 


তৃষার মা রুবি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম দিকে তারা তৃষা ও সোহাগের বিয়ে মেনে না নিলেও পরবর্তীতে মেনে নেন। সোহাগ রাজ মিস্ত্রি’র কাজ করলেও ছিল ভবঘুরে ও অলস প্রকৃতির। একদিন কাজ করলে এক সপ্তাহ বসে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে দিন পার করতো। ৫ বছরের সাংসারিক জীবনে তাদের কোন সন্তান না হওয়ায় গত ছয় মাস ধরে প্রায়ই তৃষাকে শারীরিক নির্যাতন করতো।


ঈদের অবসরে তৃষার বাবার বাড়িতে তাদের কিছু আত্মীয়স্বজন আসলে তৃষাকে তার মা ফোনে জানায় এবং তৃষা বাড়িতে যেতে পারবে কি-না জানতে চায়। তৃষা তার স্বামীর সাথে কথা বলে তার মাকে জানাবে বলে জানায়। পরে তৃষা কিছু না জানালে আবারো ফোন করলে ফোনে তৃষার মৃত্যু সংবাদ পায় তার মা।


স্বামী সোহাগের পাশের বাড়ির এক নারী জানায়, তৃষার বাবার বাড়ি যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে তৃষা ও সোহাগের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে শুনতে পাই তৃষা আত্মহত্যা করেছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সোহাগের অভাবের সংসার জেনেও তৃষা প্রেম করে সোহাগকে বিয়ে করেছে। কিন্তু অভাবের সংসার হলেও সোহাগ ছিল প্রচন্ড নারী লোভী। কিছুদিন আগেও স্থানীয় এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় হাতে নাতে ধরে স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়। শালিসে সোহাগকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে। এ সকল বিষয় নিয়েও তৃষার সাথে ওই ঘটনার পর সোহাগের ঝগড়া হয়। ওই সূত্রের জোর দাবি, সোহাগ তৃষাকে মেরে মেম্বার মোতলেব ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিকদের সমন্বয়ে ঘটনাটি আঁতাতের মাধ্যমে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। 


এ ব্যাপারে জামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোতালেব এর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। 


খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সেলিম মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছি। তারপরও লাশ পোষ্টমর্টেমের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। পোষ্টমর্টেম প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। 


এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই সেতু সোনারগাঁও থানায় মামলা করবেন বলে জানা গেছে।


Tags

সাবসক্রাইব করুন!

সবার আগে নিউজ পেতে সাবসক্রাইব করুন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন