নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
১০৯ জনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আবেদন করার পর গণশুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে যাচাই-বাছাই শেষে উল্টো ফল দেখা দিয়েছে—সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার আলতাফ হোসেন নিজেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (২ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ১০৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশে ৭৮ জনের গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ৫১ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন তালিকায় আলতাফ হোসেনের নাম রয়েছে ৫৪ নম্বরে।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আলতাফ হোসেন সোনারগাঁয়ের ১০৯ জনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে জামুকায় আবেদন করেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর জামুকার একটি প্রতিনিধি দল সোনারগাঁয়ে এসে গণশুনানি আয়োজন করে। শুনানিতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও নথিপত্র যাচাই করা হয়।
গণশুনানি শেষে যাচাই-বাছাই করে আলতাফ হোসেনসহ ৫১ জনকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাতিলের সুপারিশ করা হয়। পরে জামুকার সভায় সেই সুপারিশ অনুমোদিত হলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সদস্য সৈয়দ মুহিবুর রহমান, হাবিবুল্লাহ আলম, ফজলুর রহমান, সাদেক আহমেদ খান, আব্দুস সালাম এবং সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন বলেন,আমি শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে আবেদন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।তিনি নিজেকে ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার দাবি করে জানান, প্রয়োজনীয় সব প্রমাণপত্র দাখিল করে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন